সূর্যাস্ত দেখলে অনেকেরই নাকি মন খারাপ হয়, কিন্তু আমার হয় না। আমার মনে তো আরেকটি সূর্যোদয় দেখার আশা জাগে। এমনিতেও কারো কষ্ট দেখলে তখন মনে মনে কষ্ট পেলেও কোনো খারাপ মানুষকে, বা মানুষের কোনো খারাপ কাজকেও ঘেন্না করতে পারি না। বড় জোর সেখান থেকে নিজে সরে আসি। হয়তো এড়িয়ে যেতে ভালোবাসি, এটাও নিজেকে ভালো রাখতেই...........
প্রতিটি শিশু জন্মের সময় থাকে সূর্যের মতোই পবিত্র। সারাটা জীবন নানান রকম পরিবেশ আর পরিস্থিতি মানুষের জীবনে নানা প্রভাব ফেলে বলেই, মানুষের প্রকৃতি আলাদা আলাদা হয় বলেই আমার মনে হয়। ভালো মানুষ ও তার ভালো কাজ, খারাপ মানুষ ও তার খারাপ কাজের বিচার করতে বসি আমরা তার ব্যাকগ্ৰাউন্ড না জেনেই। কখনও মেঘ সূর্যকে ঢেকে দেয়, আবার কখনও মধ্যাহ্নের প্রখর সূর্যালোক অনেক কিছুই ঝলসে দেয়।
কিন্তু জীবনের অন্তিম ক্ষণে মানুষের মন, দিনের শেষে যে সূর্য ডুবে যায় তার মতোই পবিত্র। কোনো মালিন্য আর তাকে স্পর্শ করতে পারে না । তাই সূর্যোদয় যেমন ভালোবাসি, ঠিক তেমনই ভালোবাসি সূর্যাস্ত।
আজ অলকানন্দা আর ওর বোনের কথা খুব মনে পড়ছে। হাত পা কাঠি কাঠি শ্যামলা মুখের সাধারন দেখতে দুই বোন। অথচ ওদের মৃত জ্যাঠামশাই আর জেঠিমার মেয়ে অপূর্ব সুন্দরী। কাকা-কাকীমার কাছেই সে মানুষ, পড়াশোনা কতদূর তা জানিনা, তবে প্রেম করে এক উদ্যোগী পুরুষকে বিয়ে করতে পেরেছিল। কাজে কাজেই অবস্থা মোটামুটি সচ্ছল থেকে তখন আরও ভালো হবার পথে।
কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে সব কাজকর্ম সামলে,শান্তি বজায় রেখে কাকাতো বোনেদের উন্নতির দিকে লক্ষ্য রাখা ছিল কঠিন। আর বোনগুলির বয়েস সাত,নয় হলেও কাকার বয়েস তখন অনেকটাই বেশি, বৃদ্ধপ্রায়। হয়তো ওনারা বাংলাদেশের রিফুজি, রোজগারপাতি করে বিয়ে দেরিতে করেছিলেন উনি।
ভদ্রলোকের কিন্তু বেশ গালভরা একটা নাম ছিল। অলকানন্দাদের বাবার চেয়ে বেশি ওনাকে দাদু বলেই মনে হতো।
মন্তব্য করুন